বাসের ধাক্কা
পদ্মা সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং মেরামতে খরচ হবে দুই লাখ টাকা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-০৯-২০২৬ ০৬:০৩:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-০৯-২০২৬ ০৬:০৫:৫৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা সেতুর মাওয়াপ্রান্তের ঢালে বাসের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং মেরামতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়াপ্রান্তে বাসের ধাক্কায় রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, রেলিং মেরামতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে এতে সেতুর মূল অবকাঠামোর বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটি সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি মেরামতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগতে পারে এবং দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হতে পারে। সেতুর সড়কে কিছু দাগ পড়লেও সেগুলো গুরুতর নয়।
তিনি বলেন, অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাসের যাত্রী ও সেতুর অবকাঠামো রক্ষা পেয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত আটজনকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সবাই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শংকর পাল বলেন, বাস দুর্ঘটনায় আহত যাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তারা সবাই চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে ওই ঘটনায় কেউ হাসপাতালে ভর্তি নেই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেসের একটি বাস মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়াপ্রান্তের ঢাল দিয়ে নামার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢালের দুই পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রেলিংয়ের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাসটির সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসটি মাওয়াপ্রান্তের ঢালে পৌঁছে। এ সময় চালক অন্য একটি বাসকে অতিক্রমের চেষ্টা করেন। বাসটির গতি বেশি থাকায় একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি ডানে-বাঁয়ে দুলতে থাকে। পরে বাসটি ঢালের ওপর লম্বালম্বিভাবে পিছলে গিয়ে সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। একপর্যায়ে বাসটি ঢালের ওপর উল্টে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতর থেকে আটজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেতু কর্তৃপক্ষের টহল গাড়ি ও রেকারের সহায়তায় দুপুর আড়াইটার দিকে বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সেতু-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে পদ্মা সেতু উত্তর থানায় রয়েছে। সেতুর নিরাপত্তায় গাড়িসহ দুটি টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য রয়েছেন।
পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানায় হস্তান্তরের পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পুরো সেতুতে প্রায় ৪০০ মিটার পরপর ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সেতুর যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তিনি জানান, পদ্মা সেতুতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দূরত্বে বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। তবে অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না। দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা যানবাহনগুলোর গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল বলে ক্যামেরার তথ্য থেকে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক ও সেতুতে দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা ও অন্যান্য নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর বিকল্প নেই।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স